'পারমাণবিক' বা 'নিউক্লিয়ার' শব্দটির সঙ্গে মানুষের স্বভাবতই একধরনের অজানা শঙ্কা বা ভয় জড়িয়ে থাকে । এই শব্দটা শুনলেই অবচেতনভাবে আমাদের চোখের সামনে ভেসে ওঠে ১৯৮৬ সালের সেই ভয়াবহ চেরনোবিল বিপর্যয় কিংবা ফুকুশিমার ধ্বংসস্তূপের ছবি। কিন্তু বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে ঘিরে এই ভীতি কেবল তেজস্ক্রিয়তা বা চুল্লি বিস্ফোরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বরং চেরনোবিলের মতো কোনো ভৌত বিস্ফোরণের চেয়েও বড় হয়ে দেখা দিয়েছে এক 'আর্থিক চেরনোবিল'-এর আতঙ্ক। এই আতঙ্ক হলো এক বিশাল অঙ্কের বিদেশি ঋণের ফাঁদ এবং বিগত সরকারের রেখে যাওয়া নজিরবিহীন দুর্নীতির কালো ছায়া।
তবে মুদ্রার উল্টোপিঠে রয়েছে এক বিশাল সম্ভাবনাও। সব বিতর্কের ঊর্ধ্বে গিয়ে যদি প্রকল্পটি সফলভাবে পরিচালিত হয়, তবে এটিই হতে পারে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সবচেয়ে বড় হাতিয়ার।
সাধারণ মানুষের মনে রূপপুর নিয়ে প্রথম প্রশ্নটিই থাকে নিরাপত্তা নিয়ে। একটি ঘনবসতিপূর্ণ দেশে পারমাণবিক দুর্ঘটনা ঘটলে তার পরিণতি হবে অকল্পনীয়। তবে প্রযুক্তিগত দিক থেকে রূপপুরে ব্যবহৃত রাশিয়ার সর্বাধুনিক 'VVER-1200' রিঅ্যাক্টরগুলো চেরনোবিলের তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং বহুগুণ বেশি নিরাপদ। এতে 'কোর ক্যাচার' (Core Catcher)-এর মতো প্যাসিভ সেফটি সিস্টেম রয়েছে, যা কোনো কারণে দুর্ঘটনা ঘটলেও তেজস্ক্রিয়তা বাইরে ছড়াতে দেবে না। অর্থাৎ, ভৌত নিরাপত্তার দিক থেকে চেরনোবিলের মতো বিপর্যয়ের আশঙ্কা এখানে অত্যন্ত ক্ষীণ। আমাদের আসল ভীতিটা তাই পারমাণবিক চুল্লিতে নয়, বরং চুক্তির নথিপত্রে।
এত ঝুঁকি ও ব্যয়ের পরও রূপপুর আমাদের কেন প্রয়োজন ছিল? এর উত্তর লুকিয়ে আছে আমাদের অর্থনীতির চাহিদার মধ্যে। ২০১৩ সালের দিকে যখন প্রকল্পটি গতি পায়, তখন প্রায় ১৬ কোটি মানুষের এই দেশে জ্বালানির তীব্র সংকট ছিল। অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য সাশ্রয়ী ও নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি অপরিহার্য। বিদ্যুৎ উৎপাদনের ক্ষেত্রে ইউরেনিয়াম হলো কয়লা ও জ্বালানি তেলের চেয়ে সাশ্রয়ী এবং পরিবেশবান্ধব। এক কেজি ইউরেনিয়ামের জ্বালানি সক্ষমতা ৬০ টন ডিজেল ও শত টন কয়লার সমান। রূপপুর পুরোদমে চালু হলে তা জাতীয় গ্রিডে ২,৪০০ মেগাওয়াট স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ করবে, যা দেশের মোট চাহিদার একটি বড় অংশ।
বর্তমানে বাংলাদেশে বিদ্যুতের গড় উৎপাদন খরচ প্রায় ১২ টাকা প্রতি ইউনিট। গড়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ বিক্রি হয় ৯ টাকার নিচে।সরকার ভর্তুকি দিয়ে তা কম দামে দিচ্ছে, তাই প্রতি বছর রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে ৪০ হাজার কোটি টাকা বেরিয়ে যাচ্ছে। রূপপুর চালু হলে উৎপাদন খরচ নামবে মাত্র ৪.৫০ থেকে ৮ টাকায় , যেখানে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুতের খরচ ৮-১০ টাকা এবং ডিজেলচালিত কেন্দ্রের খরচ ২২-৩০ টাকা। এই একটি পরিবর্তনই দেশের ভর্তুকির বোঝা বহুগুণ কমিয়ে আনবে।
উৎপাদন ব্যয়ের স্থিতিশীলতা এ প্রকল্পের একটি বড় অর্থনৈতিক সুবিধা। প্রচলিত বিদ্যুৎকেন্দ্রে জ্বালানির দাম বাড়লে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যয়ও বাড়ে, যা শেষ পর্যন্ত ভোক্তা ও শিল্প খাতে চাপ সৃষ্টি করে। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে প্রাথমিক বিনিয়োগ বেশি হলেও দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি ব্যয় তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকে। যদিও রূপপুর প্রকল্পে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের খরচ শুরুতে ৬ টাকা ধরা হয়েছিল, বর্তমানে তা প্রায় ১২ টাকায় পৌঁছাতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে, তবুও দীর্ঘমেয়াদে এটি একটি পূর্বানুমানযোগ্য ব্যয় কাঠামো তৈরি করতে সক্ষম হবে। এই পূর্বানুমানযোগ্যতা অর্থনৈতিক পরিকল্পনা ও বাজেট ব্যবস্থাপনার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কর্মসংস্থান ও মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই প্রকল্পের গুরুত্ব অপরিসীম। পারমাণবিক প্রযুক্তি একটি উচ্চ দক্ষতাসম্পন্ন খাত। রূপপুর প্রকল্পের মাধ্যমে প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী এবং প্রযুক্তিবিদদের জন্য নির্মাণাধীন অবস্থায় প্রায় ২৫,০০০ জন এবং স্থায়ীভাবে প্রায় ২,৫০০ জনের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি দেশীয় মানবসম্পদের দক্ষতা বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা ভবিষ্যতে অন্যান্য উচ্চ প্রযুক্তি খাতে প্রবেশের সুযোগ তৈরি করবে। এটি দীর্ঘমেয়াদে জ্ঞানভিত্তিক অর্থনীতির দিকে বাংলাদেশের অগ্রযাত্রাকে ত্বরান্বিত করবে।

দীর্ঘ মেয়াদে এই সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন শিল্প খাতে এক নতুন বিপ্লব আনবে। উৎপাদন ব্যয় কমে যাওয়ার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে আমাদের তৈরি পোশাক ও অন্যান্য রপ্তানি পণ্য আরও বেশি প্রতিযোগিতামূলক হবে, যা পরোক্ষভাবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়াবে। পাশাপাশি, এটি সম্পূর্ণ কার্বনমুক্ত হওয়ায় জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে লড়াই এবং জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (SDG) বিশেষ করে 'সাশ্রয়ী ও দূষণমুক্ত জ্বালানি' (লক্ষ্য ৭) অর্জনে বাংলাদেশ এক ধাপ এগিয়ে যাবে।
রূপপুরের এই উজ্জ্বল সম্ভাবনার পুরোটাই ম্লান হয়ে যায় যখন এর পেছনের ভূ-রাজনৈতিক চাল এবং দুর্নীতির পাতাগুলো উল্টানো হয়। রূপপুর প্রকল্পটি কেবল একটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র ছিল না; এটি ছিল আন্তর্জাতিক অস্ত্র ব্যবসার একটি ধ্রুপদী 'অফসেট' চুক্তির অংশ।
ঘটনার শুরু ২০১৩ সালের জানুয়ারিতে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ভাগনি (যুক্তরাজ্যের তৎকালীন কাউন্সিলর) টিউলিপ সিদ্দিককে সাথে নিয়ে মস্কো সফরে যান। ক্রেমলিনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সেই ঐতিহাসিক বৈঠকে বাংলাদেশের জন্য রাশিয়ার কাছ থেকে ১ বিলিয়ন ডলারের বিশাল এক অস্ত্র চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির আওতায় armoured vehicles, infantry weapons, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা , এবং Mi-17 পরিবহন হেলিকপ্টার কেনা হয়।
রাশিয়া এই অস্ত্র চুক্তির সম্পূর্ণ অর্থ ঋণ হিসেবে দিতে রাজি হয়, তবে শর্ত ছিল অফসেট চুক্তি হিসেবে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণের দায়িত্বও তাদের দিতে হবে। শুধু তাই নয়, এই ঋণের গ্যারান্টি হিসেবে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি জায়ান্ট 'গ্যাজপ্রম'-কে বাংলাদেশের গ্যাসক্ষেত্রগুলোতে বিনা দরপত্রে খননের অধিকার দেওয়া হয়। মূলত এভাবেই অস্ত্রের ঋণ এবং গ্যাসের বিনিময়ে রূপপুর চুক্তির বীজ বপন করা হয়েছিল।
এই প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয় ১২.৬৫ বিলিয়ন ডলার, যার প্রায় ৯০ শতাংশ (১১.৩৮৫ বিলিয়ন ডলার) রাশিয়া ঋণ হিসেবে প্রদান করছে। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, একই রুশ প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভারত বা অন্যান্য দেশে যে খরচে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হয়েছে, রূপপুরের ক্ষেত্রে সেই ব্যয় সম্পূর্ণ অযৌক্তিক ও আকাশচুম্বী।
দুর্নীতির এই মহোৎসবের সবচেয়ে হাস্যকর রূপটি জাতি দেখেছিল ২০১৯ সালের কুখ্যাত 'বালিশ কাণ্ড'-এর মাধ্যমে, যেখানে প্রকল্পের কর্মকর্তাদের ফ্ল্যাটের জন্য অস্বাভাবিক দামে বালিশ কেনা হয়েছিল। কিন্তু সেটি ছিল কেবল শুরু।
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর আসল সত্য বেরিয়ে আসতে শুরু করে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (ACC) অনুসন্ধানে উঠে আসে এক ভয়াবহ চিত্র। অভিযোগ ওঠে যে, শেখ হাসিনা, টিউলিপ সিদ্দিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা এই প্রকল্প থেকে অন্তত ৫ বিলিয়ন (৫০০ কোটি) ডলার আত্মসাৎ করেছেন। রাশিয়ার সহায়তায় এই বিপুল পরিমাণ অর্থ মালয়েশিয়ার বিভিন্ন ব্যাংকে থাকা রাশিয়ান গোপন অ্যাকাউন্টের (Slush funds) মাধ্যমে পাচার করা হয়েছে বলে দুদক তদন্ত শুরু করে। এই কেলেঙ্কারির জেরে যুক্তরাজ্যের কোষাগার বিষয়ক মন্ত্রী টিউলিপ সিদ্দিক ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
আজকের দিনে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের মানুষের কাছে তেজস্ক্রিয়তার চেয়ে বড় ভয়ের কারণ হলো এই বিশাল ঋণ। ১২ বিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয়ের এই প্রকল্পের ঋণ শোধ করতে হবে এ দেশের সাধারণ জনগণকেই। দুর্নীতির কারণে প্রকল্পের ব্যয় যতটুকু ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে দেখানো হয়েছে, তার পুরো দায়ভার এখন দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতির কাঁধে।
যদি এই কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ যথাযথভাবে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা না যায়, কিংবা উৎপাদন ব্যয় প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেড়ে যায়, তবে সরকারকে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিতে হবে। এই ভর্তুকির চাপ এবং বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধের চাপ মিলে দেশের অর্থনীতিতে যে শূন্যতা তৈরি করবে, তা একপ্রকার 'আর্থিক চেরনোবিল'-এর মতোই ধ্বংসাত্মক হতে পারে।
এতসব নেতিবাচক দিক থাকলেও বাস্তব সত্য হলো, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র এখন আর কোনো কল্পনার বস্তু নয়, এটি একটি দৃশ্যমান বাস্তবতা। বিশাল অংকের বিনিয়োগ ইতোমধ্যে হয়ে গেছে, তাই এই প্রকল্প থেকে মুখ ফিরিয়ে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রূপপুর প্রকল্প শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি দেশের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
জুলাই-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশে এই সংকট মোকাবিলার উদ্যোগও শুরু হয়েছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস রোসাটমের মহাপরিচালকের সাথে বৈঠক করে অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে ঋণের শর্ত পুনর্নির্ধারণ করেছেন। বিদ্যুৎকেন্দ্রের ঋণ ব্যবহারের মেয়াদ ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে এবং ঋণ পরিশোধের সময়সীমা পিছিয়ে ২০২৭ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। এটি বর্তমান অর্থনীতির ওপর থেকে একটি বিশাল তাৎক্ষণিক চাপ কমিয়ে দিয়েছে।
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের জন্য একইসঙ্গে এক বিশাল সম্ভাবনা এবং ভয়ংকর এক সতর্কবার্তা। এটি প্রমাণ করে যে, একটি প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত এবং দেশের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় প্রকল্পও কীভাবে অদূরদর্শী নীতি, রাজনৈতিক স্বার্থ এবং সীমাহীন দুর্নীতির কারণে জাতির গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
চেরনোবিলের মতো কোনো পারমাণবিক দুর্ঘটনা হয়তো এখানে ঘটবে না, কিন্তু অতীতের সরকারের রেখে যাওয়া ঋণের এই পাহাড় এবং দুর্নীতির ক্ষত সামলে ওঠা দেশের জন্য এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। এখন রাষ্ট্রযন্ত্রের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত এই প্রকল্পের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা। ব্যবহৃত পারমাণবিক জ্বালানির নিরাপদ সংরক্ষণ ও নিষ্পত্তি একটি দীর্ঘমেয়াদি ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া। এসব দিক সঠিকভাবে পরিচালিত না হলে তা বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।এ ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পরিচালনার জন্য দক্ষ প্রশাসন, শক্তিশালী নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা এবং স্বচ্ছতা অপরিহার্য। যদি এ ক্ষেত্রগুলো দুর্বল হয়, তাহলে প্রকল্পের কার্যকারিতা কমে যেতে পারে এবং প্রত্যাশিত অর্থনৈতিক সুবিধা পাওয়া বাধাগ্রস্ত হবে। সবকিছু বিবেচনা করলে বলা যায়, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত বিনিয়োগ। এটি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে, শিল্প খাতকে শক্তিশালী করবে এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। তবে এর সফলতা নির্ভর করবে সঠিক ব্যবস্থাপনা, দক্ষ নীতিনির্ধারণ এবং শক্তিশালী তদারকির ওপর।
কেবল তাহলেই 'চেরনোবিল' আর 'ঋণের ফাঁদ'-এর আতঙ্ককে পেছনে ফেলে রূপপুর হয়ে উঠতে পারবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও স্বনির্ভরতার এক সত্যিকারের আশীর্বাদ।
