গত ১৯ নভেম্বর, সঙ্গীতশিল্পী জুনায়েদ ইভান তার ফেসবুক পেজে পোস্ট দিয়ে জানান যে ৩ ডিসেম্বর পঞ্চগড়ের টুনিরহাট কলেজ মাঠে তার ব্যান্ড Ashes একটি কনসার্টে অংশ নিবে।

কিন্তু সেই পোস্টের কমেন্টে একাধিক প্রোফাইল থেকে উক্ত কনসার্ট বন্ধের জন্য তৌহিদি জনতার ব্যানারে ২১ নভেম্বর একটি বিক্ষোভ মিছিলের ডিজাইন কমেন্ট করা হয়।

পরবর্তীতে পঞ্চগড় জেলাটিম-(PANCHAGARH) নামক একটি গ্রুপে Jannat Islam নামক একটি প্রোফাইল থেকে একটি পোস্ট করা হয় যেখানে পঞ্চগড় জেলায় কনসার্ট বন্ধ করায় জেলা প্রশাসকের প্রশংসা করা হয়।

পোস্টে দেয়া দুইটি স্ক্রিনশটের একটিতে দেখা যায় যে জেলা প্রশাসক টুনিরহাটে কনসার্টের উদ্যোগ বন্ধ করে দেয়ার কথা স্বীকার করেছেন। অন্য একটি স্ক্রিনশটেও তিনি বলেন যে কোন ধরণের কনসার্টের অনুমতি দেয়া হচ্ছে না।

তবে কোন পোস্টের কমেন্ট বা তিনি আসলেই এই কমেন্টগুলো করেছেন কিনা সেটি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তার সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে ২০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ পঞ্চগড় জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় (জুডিশিয়াল মুন্সীখানা শাখা) থেকে ইস্যুকৃত একটি ডকুমেন্ট পাওয়া যায় যেখানে ডিএসবির পুলিশ সুপারের বরাত দিয়ে জানানো হয় যে 'আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার সম্ভাবনা থাকায়' কনসার্টের অনুমোদন দেয়া হয় নি।

বিস্তারিত জানার জন্য পঞ্চগড় জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফরহাদ হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন যে ডিএসবি ও মাঠ পর্যায়ে পর্যবেক্ষণ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির সম্ভাবনা থাকার কারণেই অনুমোদন দেয়া হয়নি। স্থানীয় বিক্ষোভ কর্মসূচী কি এই অবনতির সূত্র কিনা সে ব্যাপারে কিছু বলতে পারেন নি। তবে ৩ ডিসেম্বর যে কোন কনসার্ট হবে না এই ব্যাপারটি তিনি নিশ্চিত করেন।
যাদের উদ্যোগে কনসার্ট
জুনায়েদ ইভানের শেয়ার করা পোস্টারে দেখা যায় যে কনসার্টের আয়োজক Tunirhat Junior Academy নামের একটি সংগঠন। আবার টিকিট বিক্রিসংক্রান্ত আরেকটি ডিজাইনে দেখা যায় যে কনসার্টের আয়োজক সংস্থার নাম "Tunirhat Junior Youth Organization"

তবে জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত ডকুমেন্টে 'টুনিরহাট জুনিয়র যুব সংগঠন' লিখা। এ ব্যাপারে আয়োজক আবদুল্লাহ আল আপনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "সংগঠনের নাম টুনিরহাট জুনিয়র যুব সংগঠন। তবে ইংরেজিতে একেকজন একেকভাবে লিখে।"
তিনি জানান যে টুনিরহাটে স্থানীয় কিছু যুবক মিলেই এই সংগঠন চালান এবং তারা বিভিন্ন পক্ষের সাথে আলোচনা করে কনসার্টটি আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। কনসার্ট বন্ধ হওয়ায় তিনি হতাশা ব্যক্ত করে বলেন যে এতে করে আয়োজক সবাই ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছেন।
আরেকজন আয়োজক ইভান আহম্মেদ আপন বলেন, "আমাদের সংগঠনের কোন ফান্ড ছিল না। আমাদের এই সংগঠনের কমিটিতে যারা ছিল তারা সবাই মিলে নিজস্ব অর্থায়নে টাকা দিয়ে সবকিছু করছি ব্যান্ডকে টাকা দিয়ে কনফার্ম করছি। ব্যানার টিকিট থেকে শুরু করে সবকিছু।"
কারা চাপ দিয়ে কনসার্ট বন্ধ করিয়েছে, এ ব্যাপারে জানতে চাইলে দুইজনই স্থানীয় জামাত-শিবিরের নেতৃত্ব-কে দায়ী করেন।
আয়োজকরা জানান যে পুরো প্রক্রিয়ার শুরু থেকেই স্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের সাথে তারা যোগাযোগ রেখেছিলেন। স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বও এই প্রক্রিয়ার বাইরে ছিল না বলে তারা জানান। এক্ষেত্রে তাদের সাথে আলোচনা করে কনসার্টের তারিখও পরিবর্তন করা হয় বলে তারা দাবি করেন।
আমরা এই কনসার্ট করার জন্য প্রায় দুই মাস আগে থেকেই আলোচনা করতেছি। টুনিরহাটের আশেপাশের সকল ছাত্র-জনতা, যুবসমাজ সকলে মিলে এটা করার সিদ্ধান্ত নেই । এই কনসার্ট টা করার জন্য টুনিরহাটের আশেপাশের সকল ধরনের প্রতিনিধি বিএনপি জামায়াত থেকে শুরু করে সর্বদলীয় মানুষের সাথে বসে আমরা আলোচনার মাধ্যমে এটা করার সিদ্ধান্ত নেই ।
শুরুর দিকে আমরা ডেট করি ২৮ নভেম্বর কিন্তু ২৮ নভেম্বর অ্যাশেজ ব্যান্ড আমাদেরকে সিডিউল দিতে না পারায় আমরা ডেট পিছিয়ে ৪ ডিসেম্বর করি ।
পরবর্তীতে আমাদেরকে জানানো হয় যে ৪ ডিসেম্বর টুনিরহাটে একটি ওয়াজ মাহফিলের আয়োজন করা হয়েছে। পরে আমরা এই ওয়াজ মাহফিলের যিনি আয়োজক জামায়াতের, তিনি সহ জামায়াতের আরো কয়েকজন উপস্থিতির সাথে এই ব্যাপারে আলোচনা করি। তারা আমাদেরকে বলেন, "তোমরা কনসার্ট করো সমস্যা নাই কিন্তু তোমরা ডেটটা চেঞ্জ করো।" তখন আমরা তাদের সম্মতি নিয়ে আমাদের ডেট পরিবর্তন করে ৩ ডিসেম্বরে নিয়ে আসি ।
— ইভান আহম্মেদ আপন
বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সদস্যদের সাথে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রমাণ হিসেবে একটি ভিডিও The Dacca এর কাছে এসেছে। ভিডিওতে একটি ক্লাসরুমে পঞ্চগড় জেলা জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের সভাপতি মো. তোফায়েল প্রধান, পঞ্চগড় সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবু দাউদ প্রধান ও কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রফিকুল ইসলাম-সহ অন্য ব্যক্তিদের দেখা যায়।

ভিডিওতে আবু দাউদ প্রধান বলেন "আমরা তো পাশে আছিই... আমি তো বলেই দিছি গান বাজনা নাটক ওয়াজ মাহফিল - কোন পার্মিশনের দরকার নাই।" এসময় তার পাশে বসা তোফায়েল প্রধানকে সমর্থন দিতে দেখা যায়।
এছাড়া কনসার্টের টিকিট উদ্বোধনের একটি ছবি The Dacca সংগ্রহ করেছে। ছবির metadata চেক করলে দেখা যায় যে ছবিটি ১৬ নভেম্বর ২০২৫ সালে তোলা হয়েছে। এ ছবিতেও মো. তোফায়েল প্রধান, আবু দাউদ প্রধান ও রফিকুল ইসলাম-কে কনসার্টের টিকিট হাতে হাস্যোজ্জ্বল অবস্থায় দেখা যায়।
তবে হিমালয় জার্নাল নামের একটি স্থানীয় নিউজ পোর্টালে তোফায়েল প্রধান বলেন যে জামাতের প্রতিনিধি নয়, বরং ৪নং কামাত কাজলদিঘী ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান হিসাবে তিনি উক্ত কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করেন। কিন্তু ইসলামী রাজনীতিতে জড়িত থাকায় ব্যক্তিগতভাবে কনসার্টের পক্ষে বা বিপক্ষে তিনি কোন অবস্থান নেন নি।

ইন্টারনেটে ৪ ডিসেম্বর আয়োজিত হতে যাওয়া মাহফিলের পোস্টার পাওয়া যায়, যেটির সভাপতিত্ব করবেন পঞ্চগড় জেলা জামায়াতে ইসলামীর যুব বিভাগের সভাপতি মো. তোফায়েল প্রধান এবং প্রধান অতিথি থাকবেন পঞ্চগড় জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মো. ইকবাল হোসাইন।

সকলের সম্মতি থাকলেও কীভাবে তাদের বিরুদ্ধে আন্দোলন হল, এই ব্যাপারে জিজ্ঞেস করলে আয়োজক ইভান আহম্মেদ আপন বলেন, "আমরা জামাতের নেতাকর্মীদের প্রত্যেকটি অবগত করেছিলাম এই কনসার্ট স্টেজে কোন নিত্য পরিদর্শন হবে না বা কোন মেয়ে স্টেজে উঠতে পারবে না।তারপরও ব্যান্ড কে টাকা দেওয়া থেকে শুরু করে, টিকিট , ব্যানার , অতিথি আমন্ত্রণ ইত্যাদি সকল কিছু যখন প্রায় শেষ তখন তারা তৌহিদি জনতার নামে আন্দোলনে নেমে পড়ল। প্রথম আন্দোলন তারা করল ১৪ নভেম্বর শুক্রবার জুমা শেষে মুসল্লিদের নিয়ে। দ্বিতীয় আন্দোলন করছে ২১ নভেম্বর। এই আন্দোলনের কারা ডাক দিয়েছে কারা সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছে এটা আমাদের কাছে সুস্পষ্ট। জামায়াত এবং শিবির এই আন্দোলনের সাথে সরাসরি ভাবে সম্পৃক্ত ।"
কনসার্টবিরোধী আন্দোলনের নেপথ্যে কারা?
জুনায়েদ ইভানের পোস্টের কমেন্টে কনসার্টবিরোধী আন্দোলনের যে দুইটি ডিজাইন দেখা যায়, দুটোতেই আয়োজক হিসাবে 'তৌহিদী জনতা' লিখা। আয়োজকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে The Dacca 'তৌহিদি জনতা' ব্যানারের পেছনে কোন দলীয় নেতৃত্বের উপস্থিতি আছে কিনা তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করে।
প্রথমে জুনায়েদ ইভানের করা পোস্টে থাকা বিভিন্ন কমেন্ট বিশ্লেষণ করা হয়। এই প্রতিবেদন লিখা পর্যন্ত পোস্টে মোট কমেন্ট ছিল ৩৪৫ টি। এর মধ্যে ১২ টি প্রোফাইল থেকে ১৩টি কমেন্টে সরাসরি কনসার্টের বিরোধীতা করা হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মূলত কনসার্টবিরোধী প্রোগ্রামের ব্যানার পোস্ট করা হয়েছে। এছাড়া কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসনের বিজ্ঞপ্তি কমেন্ট করা হলেও সেগুলো কি জ্ঞাতার্থে কমেন্ট করা নাকি বিরোধীতা করে, সেটি বুঝা যায় না।
১২টি প্রোফাইল বিশ্লেষণ করে সরাসরি প্রকাশ্য রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা পাওয়া যায় ১টি প্রোফাইলে। Sheikh Shahed Hasan Mursalin নামক এই প্রোফাইলে। কনসার্টবিরোধী বিক্ষোভ মিছিলের ডিজাইন কমেন্ট করে তিনি লিখেন, "দাওয়াত থাকলো সবার।" প্রোফাইলে গিয়ে দেখা যায় তিনি ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ পঞ্চগড় জেলা শাখার ক্বওমি মাদ্রাসা সম্পাদক।

এছাড়া ৩টি প্রোফাইলের বিভিন্ন পোস্ট বিশ্লেষণ করে তাদেরকে জামাত-শিবিরের সমর্থক হিসাবে ধারণা করা যায়।
এছাড়া অন্য সকল প্রোফাইল থেকে এক ধরণের ডিজাইন কমেন্ট করা হলেও MD Hridoy Islam নামের একটি প্রোফাইল থেকে অন্য একটি ডিজাইন কমেন্ট করা হয়।

এই প্রোফাইলে গিয়ে সরাসরি কোন দলীয় দায়িত্বে থাকার প্রমাণ না পাওয়া গেলেও তাকে পঞ্চগড়-২ আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি প্রার্থীর হয়ে গণসংযোগ করতে দেখা যায়। এছাড়া তার প্রোফাইলে নিয়মিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষে প্রচারণা চালাতে দেখা যায়।


Asaduzzaman Asif নামের আরেকটি প্রোফাইল থেকে কর্মসূচির ডিজাইন দিয়ে সাথে লিখা হয় "এটা বন্ধ হয়েছে।"

তার ব্যাপারে জানা যায় যে ২০২৪ সালের ১৪ জানুয়ারি র্যাবের অভিযানের মাধ্যমে তাকে চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
আসাদুজ্জামান আসিফের প্রোফাইলে ২১ নভেম্বর হওয়া বিক্ষোভ কর্মসূচির লাইভ পাওয়া যায়। সেখানে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের মধ্যে শুধুমাত্র পঞ্চগড় জেলা ইসলামী আন্দোলনের সভাপতি মো. শাহ পরান বক্তব্য দেন। উক্ত সমাবেশের শেষে পরবর্তী কর্মসূচী হিসাবে আসাদুজ্জামান আসিফ কেউ কনসার্ট করার সাহস করলে টুনিরহাট ব্লক করার ঘোষণা করেন।
এ ব্যাপারে পরবর্তীতে ব্যাপক সমালোচনা হয়। মো. মেহেদী নামের একজন লিখেন, "ইসলামে গান-বাজনা হারাম, তাই একজন মুসলমান হিসবে আমাদের জন্য এটা আবশ্যক তা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং অন্যকেও তা করা থেকে বিরত থাকতে বলা, এটা আমাদের ইমানি দ্বায়িত্ব।আমাদের অত্র এলাকায় কিছু সময় ধরে এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং এলাকার সচেতন নাগরিক তা বন্ধের জন্য আন্দোলন করেছে।এবং মুসলিম হিসেবে আমি তাদের সমর্থন করি!কিন্তু উক্ত আন্দোলনে একজন উগ্রবাদী ব্যক্তি বলেছে কনসার্ট বন্ধ না করলে টুনিরহাট *ব্লক করে দেবে।এটা একটা স্বাধীন দেশ, আমরা স্বাধীন নাগরিক- এমন একটা দেশে এ-ধরণের এলাকা *ব্লক করার হুমকি সরাসরি স্বাধীনতা বিরোধী।"
টুনিরহাটের একাধিক ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করা হলে প্রত্যেকেই আসাদুজ্জামান আসিফকে চেনেন না এবং বহিরাগত বলে দাবি করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বলেন, "সে তো চট্টগ্রাম থেকে গ্রেফতার হইসিল। ওখানেই থাকত। আমরা কখনো এলাকায় দেখি নাই।" তিনি আরও বলেন যে ২১ তারিখের প্রোগ্রামে অনেকেই এসেছিল যারা টুনিরহাটের স্থানীয় না। এক্ষেত্রে কোন তৃতীয়পক্ষের যোগসাজশ আছে বলে তিনি মনে করেন কিনা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন যে এর একটা সম্ভাবনা আছে।
বাকি ৬ টি প্রোফাইলের মধ্যে ২ টি প্রোফাইল লক করা ছিল এবং অপর ৪টি প্রোফাইল থেকে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার কোন প্রমাণ পাওয়া যায় নি।
জামাত-শিবির এর সংশ্লিষ্টতা?
২৫ নভেম্বর The Dacca এর সম্পাদক লাবিব মুহান্নাদ একটি পোস্ট দেন। যেখানে লিখা ছিল, "তৌহিদী জনতার ব্যানারে জামাতের নেতৃত্বে পঞ্চগড়ে কনসার্ট বন্ধ করার তথ্য আসছে। কোন তথ্য থাকলে দিবেন কাইন্ডলি কেউ।" পোস্টের একাধিক কমেন্টে স্থানীয়রা এই কথাটিকে সমর্থন করেন।

Panchagarh Update News পঞ্চগড় আপডেট নিউজ নামের একটি পেইজে ১৪ নভেম্বরের বিক্ষোভ মিছিলের ভিডিও পাওয়া যায়। ভিডিওতে দেখা যায় যে উক্ত বিক্ষোভ কর্মসূচি পরিচালনা করেন স্থানীয় ছাত্রশিবিরের দায়িত্বশীল মো. আবু সায়ীদ। তিনি বলেন "একটি চক্র মুসলিমদের দেশে বড় বড় কনসার্ট আয়োজন করে যাচ্ছে। আমরা প্রশাসনকে জানাতে চাই যে টুনিরহাটের কনসার্ট অতি দ্রুত বন্ধ করে দিতে হবে।"

এছাড়া সোশাল মিডিয়া থেকে প্রাপ্ত আরেকটি ছবিতে আজিমুল ইসলাম নামের একজনকে ব্যানার ধরতে দেখা যায় যিনি স্থানীয়ভাবে জামায়াতের রাজনীতি করেন বলে পরিচিত। তিনি কোন পদে আছেন কিনা, কিংবা তার 'সাংগঠনিক মান' নিয়ে The Dacca নিশ্চিত হতে পারে নি।

পরবর্তীতে The Dacca-র কাছে একটি স্ক্রিনশট আসে যেখানে "এসো মুক্তির পথে যুব সংগঠন" নামক একটি গ্রুপচ্যাটে Munna Islam নামের এক ব্যক্তি ২১ নভেম্বরের বিক্ষোভ কর্মসূচীতে অন্যদের আহ্বান করেন।

উক্ত মো. মুন্না ইসলাম পঞ্চগড় সদর পূর্ব আদর্শ শাখা ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি। 'এসো মুক্তির পথে যুব সংগঠন' এর ব্যাপারে স্থানীয়ভাবে খোঁজ নিলে জানা যায় যে এটি মূলত ছাত্রশিবিরের সাথে জড়িত ব্যক্তিরাই পরিচালনা করে। গ্রুপ চ্যাটে তোফায়েল প্রধান-সহ জামায়াত ও শিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের একাধিক দায়িত্বশীলের উপস্থিতি পাওয়া যায়।
এছাড়া আরেকটি স্ক্রিনশট The Dacca সংগ্রহ করে। এখানে পুর্বে উল্লিখিত মো. হৃদয় ইসলাম (নিকনেম আরবীতে 'মুসাফির' লিখে সেট করা) কনসার্ট বন্ধ করার বিষয়ে প্রশাসনের বিবৃতি শেয়ার করে লিখেন "আমরা সফল।" গ্রুপচ্যাটটি ইসলামী ছাত্রশিবির পরিচালিত হওয়ার ব্যাপারে The Dacca নিশ্চিত হয়েছে।

The Dacca স্থানীয় একজন ব্যক্তির সাথে যোগাযোগ করে যিনি ১৪ তারিখের প্রোগ্রামে অংশগ্রহণ করেন। নাম প্রকাশ করা যাবে না এই শর্তে তিনি বলেন যে তিনি বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে মিছিলে যুক্ত হন। তাকে বলা হয়েছিল যে কনসার্টে মেয়েরা ছোট জামা পরে নাচবে - এর বিরুদ্ধে মিছিল হচ্ছে ধর্মীয় চেতনা থেকেই তিনি যুক্ত হয়েছেন বলে জানান। আয়োজকদের ব্যাপারে কিছু জানেন নাকি, জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, "এইগুলা তো খতিব সাহেবের সাথে পরামর্শ করে জামাতই করে।"
২১ নভেম্বরের কর্মসূচির আরেকটি ভিডিও বিশ্লেষণ করলে স্থানীয় জামাত-শিবিরের বেশ কিছু দায়িত্বশীলকে অংশগ্রহণ করতে দেখা যায়।



টুনিরহাট হাই স্কুল মসজিদের খতিব আবু সাঈদ প্রধানের সাথে The Dacca এর প্রতিবেদক যোগাযোগ করলে তিনি বলেন যে, "কর্মসূচীগুলো আমরা মসজিদ থেকেই করেছি। ১৪ তারিখ দুইটা মসজিদ ছিল, আর ২১ তারিখ এলাকার আরো বেশ কিছু মসজিদ থেকে অংশ নিয়েছে।" কনসার্টের ব্যাপারে মূল আপত্তি কীসে ছিল জিজ্ঞেস করায় তিনি বলেন যে টুনিরহাটেই বেশ কয়েক বছর আগে আরেকটি প্রোগ্রামে মারামারি হয়, যার দরুন মামলাও হয়েছে। যেহেতু আয়োজক ও অংশগ্রহণকারী সবাইই তরুণ, সেহেতু এলাকাবাসী ঝুঁকি নিতে রাজি হয়নি।
তিনি বলেন, "ওরা তো চারটা ব্যান্ড আনবে বলছে। এত বড় প্রোগ্রাম তো সদরে হয়। আমাদের এটা তো ছোট জায়গা। আর অর্গানাইজার ওদের তো কোন নেতা নাই যে সব দেখেশুনে রাখবে।" মাদকসেবন বা নারীঘটিত কোন ব্যাপার আছে নাকি জানতে চাইলে তিনি বলেন যে এগুলোরও সম্ভাবনা আছে, কিন্তু বিশৃঙ্খলাই তাদের মূল আশঙ্কার জায়গা।
স্থানীয় কোন রাজনৈতিক দল তাদের কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়েছে কিনা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, "এইগুলা তো বুঝেনই। এরকম প্রোগ্রামে ইসলামী দলগুলা নিজেরাই এসে পড়ে। জামাত ছিল, ইসলামী আন্দোলন ছিল। তবে এলাকাবাসীই প্রোগ্রাম করেছে।" ২০ নভেম্বর অনুমতি না দেয়ার কথা জানানো হলেও ২১ নভেম্বর কর্মসূচী দেয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি জানান যে অনুমতি যে দেয়া হয়নি সেটি সম্পর্কে এলাকাবাসী তেমন অবগত ছিল না।
কনসার্টের আয়োজকদের মধ্যে একজন আবদুল্লাহ আল আপন জানান যে তার নামে বিভিন্নভাবে হেনস্তা করা হয়েছে। একটি কমেন্টে 'তৌহিদী জনতা'-কে 'তৌহিদী যৌনতা' লিখে পরবর্তীতে সেটি ঠিক করে তিনি ক্ষমা চান। কিন্তু তারপরও তার নাম-পরিচয় ও বাসার ঠিকানা-সহ বিভিন্ন গ্রুপে পোস্ট করে তাকে নিরাপত্তার ঝুঁকিতে ফেলা হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। The Dacca তার এই দাবির সত্যতা পেয়েছে।

এছাড়া ১৪ নভেম্বর হওয়া বিক্ষোভ মিছিল সংক্রান্ত একটি পোস্টের কমেন্টে সজল বিশ্বাস নামক এক ব্যক্তিকে তার করা একটি 'কটুক্তিমূলক' কমেন্টের জেরে ২১ নভেম্বরের কর্মসূচিতে ক্ষমা চাইতে বলা হয়। The Dacca সেই কমেন্টটি খুঁজে পায়নি। তবে আসাদুজ্জামান আসিফের প্রোফাইলে সজল বিশ্বাসের ক্ষমা চাওয়ার ভিডিওটি পাওয়া যায়।
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যোগাযোগ করলে তারা নিশ্চিত করেন যে ৩ ডিসেম্বর কোন কনসার্ট আয়োজিত হবে না।
Editor’s Note: Due to the way JI and ICS operate in publishing their committees across the country, it is very difficult for The Dacca to verify the designations of local JI and ICS members. We had to rely on word of mouth, spare documents, and Facebook posts to properly identify the organization’s members. We attempted to contact several local JI and ICS activists, but they declined to cooperate. It is possible that we have made mistakes in identifying the activists and their roles within the organization. We apologize for any inconvenience this may have caused.
