গাজীপুরের টঙ্গীতে মাদ্রাসা শিক্ষককে থাপ্পড় মারার ঘটনায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করতে গিয়ে তথ্যগত ভুল করেছে দ্য ডেইলি স্টার বাংলা। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ঘটনাস্থল হিসেবে তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসার নাম উল্লেখ করেছে সংবাদমাধ্যমটি। তবে ঘটনাটি ঘটেছে ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায়।

দ্য ডেইলি স্টার বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘গাজীপুরের টঙ্গীর তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসায় ওই ঘটনার পর মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ হামলা, ভাঙচুর ও টাকা চুরির অভিযোগে মামলা দায়ের করে।’ (archive) প্রতিবেদনের এই অংশে শুধু প্রতিষ্ঠানের নামই ভুলভাবে উল্লেখ করা হয়নি, বরং মামলাটির বাদী কোন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, সে বিষয়েও বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

অথচ দ্য ডেইলি স্টার নিজেই এর আগে প্রকাশিত প্রতিবেদনে ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাটির নাম উল্লেখ করেছিল। ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত ইংরেজি প্রতিবেদনে সংবাদমাধ্যমটি জানায়, টঙ্গীর মধ্য আউচপাড়া এলাকার ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মোসলেউদ্দিনের বিরুদ্ধে সাত বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে। ২৫ অক্টোবর প্রকাশিত আরেকটি প্রতিবেদনেও একই প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করে সংবাদমাধ্যমটি।

ঘটনার পর অন্যান্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনেও একই তথ্য পাওয়া যায়। ২৪ অক্টোবর দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসের প্রকাশিত প্রতিবেদনে ঘটনাস্থল হিসেবে টঙ্গীর ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার নাম উল্লেখ করা হয়। একইভাবে ৩ নভেম্বর হাইকোর্টের আদেশ নিয়ে প্রকাশিত বাংলাদেশ প্রতিবেদনেও বলা হয়, মাদ্রাসাটির প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলমাস হোসেন শাহজালাল রুমির বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন। সেখানে প্রতিষ্ঠানটির নাম ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসা হিসেবেই উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল ক্যাডেট মাদ্রাসা ও তামিরুল মিল্লাত কামিল মাদ্রাসা দুটি পৃথক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২১ অক্টোবর। সাত বছর বয়সী এক শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ ওঠে ক্বারিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মোসলেম উদ্দিনের বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানার পর শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমি মাদ্রাসায় গিয়ে ওই শিক্ষককে থাপ্পড় মারেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষককে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয়। এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করা হয়। পরবর্তী সময়ে মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আলমাস হোসেন রুমিসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন। মামলায় হামলা, ভাঙচুর ও ১৭ লাখ টাকা লুটের অভিযোগ আনা হয়।